নেপালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জি’তেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও ডিফে’ন্ডার মাসুরা পারভীনের বাড়ি সাত’ক্ষীরায় বইছে আনন্দের জোয়ার।

 

কিন্তু সবাই আনন্দের জোয়ারে ভাসলেও দু’শ্চি’ন্তায় রয়েছে মাসুরার পরিবার। সাতক্ষীরা শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বেতনা নদীর তীরে বিনেরপো’তা এলাকায় মাসুরাদের বাড়ি। সেখানে তার মা-বাবা ও দুই বোন বসবাস করেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাদের বাড়ি গিয়ে মাসুরার বাবা রজব আলী ও মা ফাতেমা বেগমের স’ঙ্গে কথা হয়।

 

এ সময় দেখা যায়, তাদের ঘরের পেছনের দে’য়ালে তিনটি ক্র’স চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মাসুরার বাবা রজব আলী বলেন, ‘২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে আমার মেয়ের একমাত্র গোলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌর’ব অর্জন করে বাংলাদেশ। আমাদের থাকার জায়গা না থাকার বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে।

 

তখন তিনি আমাদের মাথা গো’জার ঠাঁ’ই করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আমাকে যে জমি দেওয়া হয় সেখানে ১৫ ফুট পানি জমে ছিল। বিভিন্ন দফতরে বহুদিন ছোটাছু’টির পর সহায়তা না পাইনি। বা’ধ্য হয়ে মাসুরার বঙ্গমাতা গো’ল্ড কাপের তিন লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভ’রাট করি। সেই সময় মাসুরা ২৮ দিন বাড়িতে ছিল।

 

তার ইচ্ছা ছিল দুই দিন বাড়িতে থেকে ঢাকায় যাবে। ২৬ দিনের মাথায় মেয়ের খেলার পুরস্কারের টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি করি। এরপর মাত্র দুই দিন নতুন ঘরে থেকে ঢাকায় খেলতে চলে যায় মাসুরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইটাগাছা পূর্বপাড়ায় একটি জরাজী’র্ণ ভা’ঙাচো’রা দোচা’লা ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতাম।

 

চাল ও দেয়াল খসে পড়ছিলো। মাসুরা বা’ধ্য হয়ে তার সঞ্চিত টাকা দিয়ে এই ঘর করেছে। আগে ভ্যা’নে করে এলাকায় ফল-মূল বিক্রি করে সংসার চালাতাম। অ’সুস্থতার কারণে এখন আর সে’টাও করতে পারি না।’ রজব আলী বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে বাড়ি বানিয়ে এখন আমরা প্রায় নিঃ’স্ব। এদিকে আমার শ’রীরটাও ভালো না। কাজ করতে পারি না।

 

মেয়ের খেলার টাকায় সংসার চলে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ অ’বৈধ স্থাপ’না উ’চ্ছেদ করবে। সেই হিসেবে আমাদের বাড়িতে ক্র’স চি’হ্ন দিয়ে গেছে। সরকারিভাবে পাওয়া আট শতক জমিতে ঘর করেছি। এটা ভে’ঙে দিলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোথায় থাকবো?’ তিনি জানান, এ বিষয়ে কথা বলতে দুই বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে গিয়েছিলেন।

 

কিন্তু ইউএনওর দেখা পাননি। পরে ইউএনওর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন মাসুরা। তখন ইউএনও বলেন, ‘সড়ক বিভাগের সীমানার মধ্যে আপনার বাড়ি পড়লে আমাদের করার কিছু নেই’। এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ফাতেমা তু’জ জোহরা বলেন, ‌‘মাসুরাদের ঘরে ক্র’স চিহ্ন দেওয়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি।’

 

মাসুরার মা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘মেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরবে। দেশের মানুষ আন’ন্দ করছে। কিন্তু আমরা তো দুশ্চি’ন্তাই আছি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সরকারি জায়গায় থাকায় সকল স্থাপনা উ’চ্ছেদ করবে। আমাদের ঘরের পেছনে ক্র’স চিহ্ন দেওয়া হয়েছে।

 

ঘর ভে’ঙে দিলে থাকবো কোথায়? সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‌‘সরকারিভাবে জমি পাওয়ার প্রমাণপত্র নিয়ে উ’চ্ছেদের দিন উপস্থিত থাকলে ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্ধান্ত নেবেন। ভু’ল করেও ক্র’স দিতে পারে। এতে উ’দ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.