সাফ ফুটবলের শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরে বিপুল গণসংবর্ধনা পেয়েছেন নারী ফুটবলাররা। সেইসঙ্গে ঘ’টেছে একটি ল’জ্জাজনক ঘটনাও। কয়েকজন ফুটবলারের লাগেজ থেকে টাকা-পয়সা চু’রি হয়েছে। বিমানবন্দরের ‘লাগেজ পা’র্টি’ এই কাজ করেছে বলে অভি’যোগ। নারী ফুটবলার শামসুন্নাহার সিনিয়রের ব্যাগ থেকে চু’রি হয়েছিল ৪০০ ডলার। এছাড়া কৃষ্ণা আর সানজিদার ব্যাগ থেকে চু’রি হয়েছিল ৯০০ ডলার ও ৫০ হাজার টাকা। তাদেরকে খোয়া যাওয়া টাকার দ্বিগুণেরও বেশি ক্ষ’তিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা কিংবা চু’রির অভি’যোগ নিত্যদিনের। এসব অভি’যোগ মূলত এয়ারলাইন্সগুলোর বি’রু’দ্ধে। লাগেজ না পেয়ে প্রবাসীসহ ভু’ক্তভো’গীরা মাঝেমধ্যে বিমানবন্দরেই প্র’তিবাদ করেন। দিনের পর দিন এসব ঘটতে থাকলেও কোনো গুরুত্ব দেয় না।

 

ফলে অভি’যোগের সুরাহাও হয় না; ধরা পড়ে না জ’ড়িতরা। প্রভাবশালী কারও লাগেজ চু’রি কিংবা কা’টা পড়লেই কেবল কর্তৃপক্ষ ন’ড়েচড়ে বসে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, কয়েকটি এয়ারলাইন্সের বিরু’দ্ধে লাগেজ কাটা, চু’রি ও ফেলে রেখে আসার অভি’যোগ প্রতিনিয়তই পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি ভো’গান্তি’র শি’কার হন মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীরা।

 

বেশি অভি’যোগ আসে ‘সালাম এয়ার’ ও ‘ইত্তিহাদ এয়ারওয়েজ’-এর বিরুদ্ধে। অভি’যোগ আছে ‘জাজিরা এয়ারওয়েজ’, ‘এয়ার অ্যারাবিয়া’, ‘ফ্লাই দুবাই’, ‘মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স’, ‘ওমান এয়ার’, ‘গালফ এয়ার’ ও ‘কুয়েত এয়ারওয়েজ’-এর বিরু’দ্ধেও। বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, লাগেজ চু’রি প্রতি’রোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হটলাইন। ভু’ক্তভো’গীরা অভি’যোগ দিলে তদ’ন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

লাগেজ হা’রিয়ে গত ১৬ জুলাই বিমানবন্দরে অভিযোগ জানান মির্জা সেলিম নামে এক দুবাই প্রবাসী। লি’খিত অভিযো’গে তিনি বলেন, গত ৮ জুলাই সকালে তিনি এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইটে ঢাকা আসেন। লাগেজ বেল্টে গিয়ে দেখেন তার একটি লাগেজ আসেনি। বিমানবন্দরে রাত পর্যন্ত অপে’ক্ষা করেন তিনি। এরপর এয়ার অ্যারাবিয়ার কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন, পরের দিন বাড়িতে লাগেজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

 

এরপর ১২ জুলাই এসএ পরিবহন থেকে ফোন করে তাদের যাত্রাবাড়ীর অফিসে যেতে বলা হয়। বাড়িতে লাগেজ নিয়ে এসে দেখেন ভেতরের মালামাল চু’রি হয়ে গেছে। তৌহিদ হোসেন নামের এক ভু’ক্তভো’গী আমাদের সময়কে বলেন, গত ২৩ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লা’ইটে তিনি নেপাল থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন। বাড়িতে গিয়ে দেখেন, তার লাগেজ থেকে লাখ টাকা গা’য়েব।

 

এরপর তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর আর্মড পুলিশে অভি’যোগ জানান। তিনি বলেন, নেপাল যাওয়ার পর আমার কাপড়ের লাগেজে টাকা ছিল। বাংলাদেশে ফেরার সময় লাগেজ থেকে টাকাগুলো হ্যান্ডব্যা’গে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম আমা’দের স’ময়কে বলেন, লাগেজ কা’টা, লাগেজ চু’রি ও লাগেজ ফেলে আসার বিষয়গুলো তদন্ত ও সমাধানের জন্য একটি কমিটি আছে।

 

এ ছাড়া বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে সত’র্ক করা হয়েছে। বুকিং হওয়া লা’গেজ যাতে ফেলে না আসে। লাগেজ না পেলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের হটলাইনে অভি’যোগ দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমান পরিচালিত হা’রানো ও প্রা’প্তি শাখা রয়েছে। লাগেজ চু’রি ও হারানো গেলে যাত্রীকে সেখানে লিখিত অভি’যোগ দিতে হবে। তার দা’বি, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়। এখন লাগেজ চু’রি হয় না বললেই চলে।

 

ভু’ক্তভো’গীরা বলেন, লাগেজ চু’রির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি এয়ারলাইন্স প্রবাসী বাংলাদেশিদের লাগেজ বুকিং নিলেও তা ফেলে আসে। লাগেজের জন্য মাসের পর মাস ঘুরতে থাকেন ভু’ক্তভো’গীরা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে ২ হাজার ৯৪টি ফ্লাইট অবতরণ করে। এসব ফ্লাইটে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৪৮ যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার যাত্রীর লাগেজ দেশে আনেনি এয়ারলাইন্সগুলো। দেশে না আনার তেমন কোনো কারণও জানাতে পারেনি তারা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শাহজালাল বিমানবন্দর দেশি-বিদেশি ৩১টি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কাজ করছে। বিষয়টি সুরাহা করতে প্রতিটি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। তাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও হটলাইন নম্বর সংগ্রহ করে বিমানবন্দরে টা’ঙানো হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা হ’টলাইন খোলা থাকে। লাগেজ না এলে তারা এসব নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া ইচ্ছাকৃ’তভাবে লাগেজ রেখে আসা এয়ারলাইন্সগুলোকে শা’স্তির আওতায় আনছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

 

লাগেজ নিয়ে প্রবাসীদের হ’য়রা’নি করা হলে বিমানবন্দরে নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাৎক্ষণিক অভি’যোগ জানানো যায়। অভি’যোগ প্রমাণিত হলে জরিমা’না করেন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে অভিযো’গের সংখ্যা বেশি হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের বি’রু’দ্ধে বেবিচকের কাছে অভি’যোগ দিতে পারে। বেবিচক তাদের শা’স্তির আওতায় আনে।

 

বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি থেকে আসা লাগেজে যাত্রীরা জমজমের পানি আনেন, যা সম্পূর্ণ নি’ষি’দ্ধ’। স্ক্যানিংয়ের পর লাগেজ খুলে পানি ফেলে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। যারা কাপড়ের ব্যাগ বা কার্টনে পানি আনেন, সেগুলো কে’টে পানি রেখে দেওয়া হয়। সেই কা’টা ব্যাগ দেশে পাঠালে প্রায়ই চু’রির অভি’যোগ ওঠে। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানোর পর তা বে’ল্টে দেওয়া এবং যাত্রীর হাতে আসার আগ পর্যন্ত গোটা এলাকাই সি’সি ক্যামে’রার আওতায়।

 

লাগেজ কা’টার অভি’যোগ থাকলে খুব সহজেই তার প্রমাণ মিলবে। আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশনের (আইকাও) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিমানবন্দর যদি যৌ’ক্তিক কারণে যাত্রীর লাগেজ কাটে, তাহলে সেটা যাত্রীকে জানাতে হবে এবং একটা স্লি’প দিতে হবে। তবে সৌদি আরবের জমজ’মের পানি বের করার বিষয়ে কাউকে অব’হিত করা লাগে না।

 

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, লাগেজ নিয়ে কয়েকটি ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে ব্যব’স্থা নিয়েছি। এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি কাস্টমস ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলার, মূলত যারা লাগেজ হ্যা’ন্ডেল করেন, তাদের সত’র্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ বিষয়ে কাজ করতে একটি কমিটিও করা হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, ‘লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড’ খুঁজে পেতে বিমানবন্দরের নিরাপ’ত্তাকর্মীদের সহায়তা নিতে হবে। পিআইআর করার ২১ দিনের মধ্যে লা’গেজ বু’ঝিয়ে দিতে না পারলে এয়ারলাইন্সগুলো যাত্রীকে ক্ষ’তিপূরণ দেবে। আমাদের সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *