কাতারে থাকা বাংলাদেশির অজান্তেই ব্যাংক থেকে গায়েব ১৮ লাখ টাকা!

বাংলাদেশে উত্তরা ব্যাংকের জয়দেবপুর শাখায় কাতার প্রবাসী গ্রাহক শাহজাহান মোল্লার অ’গোচরে তার অ্যাকাউন্ট থেকে দুই দফায় ১৮ লাখ টাকা উ’ধা’ও হয়ে গেছে। গত ২১ আগস্ট ব্যালেন্স চেক করতে কাতার থেকে এই প্রবাসী মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন জয়দেবপুর শাখায়। এ সময় তিনি প্রথমবারের মতো বিষয়টি জানতে পারেন।

এরপরই কাতার থেকে তার অ্যাকাউন্টের (নং ১৬৬৯১১১০০১১৮৩৭৬) টাকা উ’ধাও হওয়ার বিষয়ে এক ভি’ডিও বার্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। নিজের কষ্টার্জিত টাকা ফিরে পাওয়ার আকু’তি জানান দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও।

ভু’ক্তভো’গী কাতার প্রবাসী শাহজাহান মোল্লা গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকার মৃত ইউসুফ মোল্লার ছেলে। তিনি ১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর উত্তরা ব্যাংকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে টাকা লেনদেন করেন ওই অ্যাকাউন্টে।

স্টেটমেন্টে দেখা যাচ্ছে, ১৪ আগস্ট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম আ’ট লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয় সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখায়। একই দিন আরও ১০ লাখ টাকা স্থা’নান্তর হয় জয়পাড়া এসএমই শাখায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে জানায়, তার অ্যাকাউন্টে সাত লাখ ৫৯ হাজার ৫৮০ টাকা রয়েছে। দুই দফায় ১৮ লাখ টাকা ট্রান্সফার হওয়ার কথা শুনে হতবা’ক ওই গ্রাহক।

অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের অনুপ’স্থিতিতে কীভাবে এত টাকা স্থানান্তরিত হয়ে গেল- সেই প্রশ্নের কোনো সদু’ত্তর দিতে পারেননি কর্তৃপ’ক্ষ। উল্টো তো’লপা’ড় শুরু হয় উত্তরা ব্যাংক জয়দেবপুর শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। বিষয়টি দেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যদের জানালে ব্যাংকের দ্বা’রস্থ হন তারা। পরে তার ছোট ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম পুরো বিষয় বর্ণনা দিয়ে অ’ভিযো’গ দা’য়ের করেন মে’ট্রোপলিটন বাসন থানায়।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, টাকার হদিস পেতে প্রতিদিন ব্যাংকে যাচ্ছি। এখনো কোনো সমাধান পাইনি। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের অনুমতি এবং স্বাক্ষর ছাড়া টাকা গা’য়েব হয়ে যাওয়া খুবই উদ্বেগজনক বিষয় বলে জানান তিনি। আরটিজিএস ফরম কিংবা ক্লিয়ারিং চেকে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের স্বাক্ষর ছাড়া কীভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ ট্রান্সফার হলো?

এমন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নিজেদের দা’য় এড়িয়ে ব্যাংকের ম্যানেজার স্কাইল্যাব চৌধুরী বলেন, সাতক্ষীরার অ্যাকাউন্টে যাওয়া অর্থ অভিযোগের মাধ্যমে স্থগিত করা গেলেও ১০ লাখ টাকা এরই মধ্যে উ’ত্তোলন হয়ে গেছে। তবে ৩১ আগস্টের মধ্যেই গ্রাহকের টাকা ফি’রিয়ে আনা হবে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিবি ও মিডিয়া) আবুসায়েম নয়ন জানান, অভিযো’গের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে তদ’ন্ত শুরু হয়েছে।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *