বর্তমান সময়ে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিংহা’সনে থাকা ব্রুনাইয়ের শাসকদের সুল’তান হাসানাল বলকিয়াহ তিনদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকায় আসছেন। বাংলাদেশে এটাই তার প্র’থম সফর। ১৯৬৭ সালে তার বাবা স্যার হাজি ওমর আলী সাইফুদ্দিন সিংহা’সন ত্যাগ করার পর ১৯৬৮ সালের অগাস্টে হাসানাল বলকিয়াহ ব্রুনাইয়ের সুলতান হিসেবে রাজমুকুট পরিধা’ন করেন।

 

তিনি একই সাথে ব্রুনাইয়ের প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মী’য় নেতা। এছাড়া তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন এবং শাসক হিসেবেও শীর্ষ সম্প’দশালীদের অন্যতম। বিলাসবহুল জীবন এবং ইসলা’মী শ’রিয়া আই’নে দেশ চালানোসহ নানা কারণে আ’লোচিত এই সুলতানের জীবন। তিনি একা’ধারে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং অর্থমন্ত্রী। রাজতান্ত্রিক ইসলা’মিক শাসনে পরিচালিত দেশ ব্রুনাই একসময় ব্রিটেনের উপ’নিবেশ ছিল।

 

এরপর ১৯৭৮ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতা থেকে মু’ক্ত হওয়ার জন্য ব্রিটেনের সাথে আ’লোচনা শুরু করেন সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ। এরই প্রে’ক্ষিতে ১৯৮৪ সালে পূর্ণ স্বাধীনতা পায় ব্রুনাই। ২০১৪ সালে পূর্ব এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ব্রুনাই ইসলা’মিক শ’রিয়া আইনে দেশ চালানোর ঘোষণা দেয়। দেশটির আ’ইনে প’রকী’য়া প্রেমের শা’স্তি পা’থর ছু’ড়ে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড এবং চু’রির সা’জা হিসেবে হাত কে’টে নেয়ার বিধান আছে।

 

২০১৯ সালে দেশটিতে স’মকা’মিতার জন্য ক’ঠোর শা’স্তির বি’ধান রেখে একটি আ’ইন করা হয়। আইনে পুরুষে পুরু’ষে যৌ’নক’র্ম এবং প’রকী’য়া সম্প’র্কের জন্য পাথর ছু’ড়ে মৃ’ত্যুর বি’ধান রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আ’ন্দোলনের মু’খে যদিও সুলতান ওই আইন থেকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের বি’ধান র’হিত করেন। কিন্তু ব্রুনাইয়ে আগে থেকেই স’মকা’মিতা নি’ষি’দ্ধ ছিল এবং এজন্য ১০ বছরের কা’রাদ’ণ্ডের বিধান ছিল।

 

ব্রুনাইতে কোনো বি’রোধী দল নেই, এমনকি স্বাধীনতার পর থেকে কোনো স্বাধীন সিভিল সোসাইটি গ্রুপও গড়ে উঠেনি। সরকারের বি’রো’ধিতা গ’ণ্য হতে পারে রা’ষ্ট্রদ্রো’হিতা হিসেবেও, যার শা’স্তি অ’ত্যন্ত কঠিন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাই ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের কো’লে অবস্থিত, বোর্নিও দ্বীপের উপকূলে দেশটির নিকটতম প্রতিবেশীদের মধ্যে আছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং কম্বোডিয়া।

 

১৯৪৬ সালে জ’ন্মগ্রহণ করা হাসানাল বলকিয়াহ মালয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। তিনি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সে প্রশি’ক্ষণপ্রাপ্ত একজন পাইলট। তেল ও গ্যাসের বিপুল মজুদের কল্যাণে ছোট্ট একটি দেশ ব্রুনেইয়ের জনগণের জীবনযাত্রার মা’ন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয়। এ দেশের মানুষকে কোনো আ’য়কর দিতে হয় না সরকারকে। বরং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচীর অধীনে সুলতান নিয়মিত জনগণের মধ্যে জমি এবং বাড়িঘর বিতরণ করে থাকেন।

 

এসব কারণে ব্রুনেইয়ের জনগণের কাছে সুলতান বেশ জন’প্রিয়। সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রার জন্যও বেশ আলোচিত। এক সময় তিনি ছিলেন বি’শ্বের শীর্ষ ধনী এবং এখন তার সম্প’দের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি মার্কিন ডলার। সুলতানের দুইজন স্ত্রী এবং ১১ জন সন্তান রয়েছে। বিশাল প্রাসাদ, বিভিন্ন দেশে পাঁচ-তারা হোটেল, সোনায় মোড়ানো রোলস্‌রয়েস, হাজারো গাড়ির বহর, সোনার প্রলেপ দেয়া বোয়িং, মহামূল্য চিত্রকর্মের বিশাল সংগ্রহ, পোলো খেলা- হাসানাল বলকিয়া’হর পরিচ’য়ের সাথে এসব বিষয় যেন ওতপ্রোতভাবে জ’ড়িয়ে আছে।

 

হাসানাল বলকিয়াহর রয়েছে এক বিশাল গাড়ির বহর। বলা হয়ে থাকে তার বহরে সাত হাজারের মত গাড়ি আছে, যার মোট মূল্য ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। তার গ্যা’রেজের সংখ্যা ১১০টি। সুলতানের প্রাইভেট জেট বহরে আছে বোয়িং ৭৪৭-৪০০, বোয়িং ৭৪৭-২০০ এবং একটি এয়ারবাস বিমান। বিমান বহরের মধ্যে সবচেয়ে আ’লোচিত বোয়িংটি সোনার প্রলেপ দেয়া, যাকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘উ’ড়ন্ত প্রাসাদ’ বলে অভিহিত করা হয়।

 

তার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পারফ’র্ম করতে এসেছিলেন ‘কিং অব পপ’ খ্যাত মাইকেল জ্যা’কসন। বলা হয়ে থাকে সেই অনুষ্ঠানের জন্য মাইকেল জ্যাকসনকে সাত মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক দেয়া হয়েছিল। এছাড়া সুলতান ঘোড়া পছ’ন্দ করেন, এবং পোলো খেলতে ভালোবাসেন। তিনি ফ্যাশনেবল পো’শাক পরতে পছ’ন্দ করেন। তার ব্যক্তিগত পরিচর্যার ব্য’য়ও বিপু’ল।

 

দ্য টাইমসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুলতানের চুল কা’টার জন্য তার নিজের মালিকানাধীন ব্রি’টেনের দ্য ডরচেষ্টার হোটেলের একজন না’পিত নিয়মিত বিমানের প্রথম শ্রেণিতে চে’পে উড়ে যান ব্রুনেই। বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য খরচ বাদে তার পারিশ্রমিক বিষ হাজার মা’র্কিন ডলার। এবং ওই না’পিতকে প্রতিবার নগদ পারিশ্রমিক প্রদান করা হয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *