বিশ্ব ফুটবলের মহায’জ্ঞ শুরু হতে হাতে আর খুব বেশি দিন নেই। প্রথমবারের মতো এবারের আসরের আ’য়োজক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র কাতার। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ৯২ বছর পর প্রথমবার মরুর বু’কে বসছে বিশ্বকাপের আসর।

 

পশ্চিমা বলয়ে আ’টকে থাকা ফিফা থেকে অনুমোদন পেতে কম ঘা’ম ঝ’রাতে হয়নি কাতারকে। বিশ্বকাপের দায়িত্ব পে’য়েই সবাইকে চ’মকে দেয়ার কথা বলেছিল দেশটি। স’মালো’চকদের বু’ড়ো আ’ঙুল দেখিয়ে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ মঞ্চায়নে প্রস্তু’ত কাতার।

 

কাতার এরই মধ্যে বিশ্বকাপের আসরের জন্য খ’রচের যে হিসাব দেখাচ্ছে, তা দেখে চোখ ক’পালে ওঠার মতো। খরচের দিক থেকে ছাড়িয়ে গেছে ফেলে আসা অতীতের সব বিশ্বকাপের রেক’র্ড। ২০১৪ সালে ব্রাজিল খরচ করেছিল ১৫ মিলিয়ন ডলার, ২০১৮ সালে রাশিয়া করেছিল ১১ বিলিয়ন ডলার। সেখানে কাতার কত খরচ করছে?

 

কাতার বলেছে, এবারের ফিফা বিশ্বকাপে তারা ২২০ বিলিয়ন ড’লার খরচ করছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা শুনে তা’জ্জব হয়ে গিয়েছে সবাই। হওয়ারই কথা। এই পরিমাণ অর্থ সারা বিশ্বে কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে কোনো দেশই খরচ করেনি!

 

এমনকি, অলিম্পিকের মতো ইভেন্ট আয়োজন করতে গিয়ে কোনো দেশ’কে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করতে দেখা যায়নি। ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭ বিশ্বকাপের একত্রিত খরচকেও ছা’পিয়ে গেল কাতার।

 

কেন এমন বিপুল অর্থ ব্যয় কাতারের? এত পাহাড়সমান টাকা খরচের পেছনে ‘একাধিক কারণ রয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য অত্যাধুনিক নতুন ৮টি স্টেডিয়াম তৈরি করেছে কাতার, সেই সঙ্গে খেলোয়াড়দের অনুশী’লনের জন্য তৈরি করা হয়েছে মাঠও।

 

ছোট দেশ হওয়ায় ফুটবল রেও’য়াজ সেভাবে কোনো দিনই ছিল না কাতারে। যে কারণে প্রায় সব স্টেডিয়ামই নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া ফুটবলার ও দ’র্শকের নানা সুবিধা দিতে বিভিন্ন আবাসন হোটেল,পার্ক, বিনোদনকেন্দ্রসহ অনেক কিছুই নির্মাণ করেছে দেশটি।

 

বিশ্বকাপের সময় মানুষের যাতায়াতের সুব্যবস্থার জন্য আকাশপথে ফ্লাইটসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আ’মূল পরিবর্তন এনেছে দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থায়। দোহা মেট্রো, লা’ইট ট্রাম প্রকল্পের পাশাপাশি থাকবে প্রায় চার হাজার বাস। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিমানবন্দরে আলাদা টা’র্মিনালও তৈরি করেছে কাতার।

 

অনেকের মতে, শুধু বিশ্বকাপের জ’ন্যই কি এত আয়োজন করে খরচ করছে কাতার? আসলে ২০৩০ সালের দিকে তা’কিয়ে কাতার পরিকাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। বিশ্বকাপ তারই একটা অংশ। শহরের উন্নয়নের, জাতীয় পরিকাঠা’মো, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উ’ন্নয়নের দিকেও নজর রাখা হয়েছে।

 

মূলত ২০০ বিলিয়ন ডলার কাতার ন্যাশনাল ডেভেলপমে’ন্টের জন্যই খরচ হয়েছে। আগামী ২০ নভেম্বর প’র্দা উঠছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। সাজ রবে মুখরি’ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এখন শেষ প্র’স্তুতি সারছে। এখন দেখার অপেক্ষা কাতার কতটা সফলভাবে এবারের আসরের পসরা সাজা’তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *