আর মাত্র কিছুদিন পর ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসছে মধ্যপ্রা’চ্যের তেল-গ্যাস সমৃ’দ্ধ দেশ কাতারে। কিন্তু আয়োজনের দা’য়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দেশটি একের পর এক স’মালোচ’নায় বি’দ্ধ হচ্ছে। এবার সম’র্থকদের দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতিবা’চক প্রচারণা চালানোর অভি’যোগ উঠল আয়োজকদের বিরু’দ্ধে।

 

এ সংক্রা’ন্ত একটি গো’পন ন’থিপত্র নাকি দেখার সুযোগ পেয়েছে বার্তা সংস্থা ‘এপি’। তাদের বরাত দিয়ে স্প্যা’নিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ জানিয়েছে, মূল পর্বে উঠে আসা ৩২টি দলের ১৬ শ সমর্থককে কাতারে নেওয়া হচ্ছে। তাদের সম’স্ত খরচ বহ’ন করছে আয়োজকরা। বিশ্বকাপের উদ্বোধ’নী অনুষ্ঠা’নে তাদের দিয়ে গান গাওয়ানো হবে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে আয়োজক দেশ কাতারের ব্যাপারে ইতিবা’চক প্রচার’ণা চালানোর দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের।

 

আগামী ২০ নভেম্বর কাতার ও ইকুয়ে’ডর ম্যাচের মাধ্যমে পর্দা উঠবে ২০২২ বিশ্বকাপের। গো’পন নথি ঘেঁ’টে ‘এপি’ জানতে পেরেছে, ওই ১৬ শ সমর্থকদের জন্য সেদিন পাঁচ মিনিটের ‘ফ্যান-থিমড’ পর্ব থাকবে। যেখানে প্রতি দেশের জন্য আলাদা আলাদা গান দেওয়া বা স্লো’গান দেবেন। আয়োজকদের প’ক্ষ থেকে নাকি ওই সমর্থ’কদের গান বা স্লো’গানও ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে।

 

আয়োজকদের ওই প্রো’গ্রামে ‘বিশেষ রাজনৈ’তিক মতাদর্শের অনুসারী’দের বাই’রে রাখা হচ্ছে এবং প্রতি দলের ৩০ থেকে ৫০ জন করে এমন লোকজনকে নেওয়া হচ্ছে যারা ‘একদম বিশু’দ্ধ সমর্থক’। দোহার আল বাইত স্টেডিয়ামের ওই আয়োজনে প্রতিটি সমর্থক গ্রু’পের দিকে আলাদা আলাদাভাবে ক্যা’মেরা ফো’কাস করা হবে। তাদের সবাইকে উ’ল্লাস করার জন্য শার্ট, পতাকা এবং স্কা’র্ফ তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।

 

ওই সমর্থকদের ইকোন’মি ক্লাসের ফ্লাইটে করে কাতারে আনা হচ্ছে এবং তাদের থাকা’র জন্য বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট প্র’স্তুত রাখা হচ্ছে। কমপ’ক্ষে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কিংবা চাইলে পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তারা কাতারে থাকতে পারবেন। এমনকি প্রতিদিন তাদের খরচের জন্য ২৫০ কাতারি রিয়াল (৬৮ মার্কিন ডলার) করে দেবে আয়োজকরা।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই বিশেষ পরিকল্প’নার একটি উদ্দেশ্য আছে। আর তা হলো প্র’চারণা। অংশগ্রহণকারী প্রতি দেশের সমর্থকদের মধ্যে থেকে ‘নে’তা’ খুঁজে বের করা হবে, যারা “IAMAFAN” হ্যাশট্যা’গ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতিবা’চক প্রচা’রণা চালাবেন। তাদের কাজ হবে উপযুক্ত মাধ্যমে কাতারি আয়োজকদের দেওয়া বিভিন্ন কনটে’ন্ট ছ’ড়িয়ে দেওয়া এবং বিশ্বকাপের সমর্থনে থা’র্ড পার্টি ক’র্তৃক পো’স্ট করা বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেওয়া।

 

বাছাইকৃ’ত সমর্থ’কদের বলা হয়েছে, তাদের কাতারের ‘মাউ’থপিস’ হওয়ার দরকার নেই। কিন্তু তারা কোনোভাবেই কাতার কিংবা টুর্নামেন্টকে অ’পমা’ন করা হয় এমন কিছু করা বা বলা যাবে না। সামাজিক যোগা’যোগের মাধ্যমে কেউ যদি এমন কিছু করে্ তাহলে আয়োজকদের তা জানাতে হবে এবং স’ম্ভব হলে স্ক্রি’নশ’ট নিয়েও রাখতে হবে।

 

এদিকে কাতার বিশ্বকাপের আয়োজ’কদের প’ক্ষ থেকে এক বিবৃ’তিতে জানানো হয়েছে, এবারের আসরকে দর্শ’কদের জন্য আরও ভালোভাবে উপস্থাপন করার জন্য ৫৯টি দেশের ৪৫০ জনের সম’র্থককে নিয়ে গঠিত ‘ফ্যান লিডার নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছেন। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে কয়েকজনকে উদ্বোধ’নী অনুষ্ঠানের অতিথিদের স’ঙ্গে যোগ দেবেন। কাতারি আয়োজকদের দা’বি, ওই সমর্থ’করা যার যার কমিউনিটির নেতা।

 

কিন্তু ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরো’প’ নামের একটি গ্রুপের এক্সি’কিউটিভ ডিরেক্টর রোনান এভাইন ‘এপি’-এর কাছে বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের সংগঠনটি আবার উয়েফার তালিকাভু’ক্ত। সমর্থকদের ব্যাপার নিয়ে এই গ্রুপের স’ঙ্গেই যোগাযোগ করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। রোনান এভাই’ন বলছেন, বিশ্বকাপের আয়োজকরা ভু’ল বার্তা দিচ্ছেন।

 

তিনি বলেন, ‘একথা একদম পরি’ষ্কার যে, তারা (আয়োজকদের বাছাই করা সম’র্থকরা) কিছুতেই সমর্থকদের প্রতি’নিধি নন। তারা বিশ্বকাপের স্বেচ্ছাসেবক কিংবা বেতনভু’ক্ত কর্মচারী। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রবাসী শ্রমিকদের স’ঙ্গে অ’মানবিক আ’চরণের অভি’যোগ উঠতে শুরু করে কাতারের বি’রু’দ্ধে।

 

বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ কাজে সেখানে থাকা হাজারো প্রবাসী শ্রমি’কের অবহেলায় মৃ’ত্যুর অভি’যোগও উঠেছে। তাছাড়া দেশটির রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার কারণে সমর্থকদের বেশকিছু সমস্যার মুখোমু’খি হতে হবে। এ নিয়েও সমা’লোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *