দুয়ারে ক’ড়া নাড়ছে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ফুটবল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ক্রী’ড়া– দুনিয়ার এই মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর বাকি মাত্র ১১ দিন। মরুভূমিতে ঘেরা কাতারে এই মুহূর্তে তাই চলছে ভীষণ রো’মাঞ্চের ছড়াছ’ড়ি। বিশ্বের নানা প্রান্তের অতিথিকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি মরু উপত্যকায় প্রায় সম্পন্ন। সাজিয়ে তোলা হচ্ছে রঙিন আলোয়।

 

এতসব আয়োজন ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নামে খ্যা’ত ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরেই। সফল এক আয়োজন উপহার দিয়ে গো’টা ফুটবল দুনিয়াকেই চম’কে দিতে প্রস্তুত মধ্যপ্রাচের দেশ কাতার। ২০ নভেম্বরে পর্দা উঠবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। এই প্রথম এমন মহায’জ্ঞ আয়োজন কাতারের। নয়না’ভিরাম অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম তৈরি, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের থাকা-খাওয়াসহ দর্শকদের জন্য সব ধরনের সুযোগ সু’বিধার প্রস্তুতিই সেরে রেখেছে কাতার।

 

বিশ্বকাপের দা’য়িত্ব পেয়েই সকলকে চমকে দেওয়ার কথা বলেছিল তারা। সেই ল’ক্ষ্যে কাতার কতটা সফল তার উত্তর অবশ্য সময়ের হাতে। তবে খরচের নি’রিখে যে শুধু ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ এবং এখনও পর্যন্ত সব চেয়ে ব্যায়বহুল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপকে ছা’পিয়ে গেছে তা নয়, ১৯৯৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭ বিশ্বকাপের একত্রিত খরচকেও ছা’পিয়ে গেছে কাতার!

এ যা’বৎকালের ইতিহাসে এখন পর্য়ন্ত সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছিল ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে। সেবার সেলেসাওরা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য খরচ করেছিল ১,৩২,৭০৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপর ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপ আয়োজনে খরচ হয়েছিল ১,০২,৬২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপ আয়োজনের খরচ ১ লাখ কোটি টাকা পে’রোয়নি।

 

ব্রাজিল ও রাশিয়ায় তা পেরোলেও কাতার সকলকে পেছনে ফেলে দিল। কাতার বিশ্বকাপের আয়োজন করতে খরচ হয়েছে ১৭,৬৮,১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এত পরিমাণ অ’র্থ খরচের পেছনে এ’কাধিক কারণও রয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য কাতারে ৮টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি করতে হয়েছে দলগুলোর জন্য অনুশীলনের মাঠও। মাঠে দর্শক ও ফুটবলারদের নানারকম সুযোগ-সুবিধার জন্যও খরচ হয়েছে বিপুল পরিমাণ অ’র্থ।

 

কাতারে সব হো’টেল মিলিয়ে ঘরের সংখ্যা ছিল কম-বেশি ৩০ হাজার। যার প্রায় পুরোটাই ফিফা অনেক আগে থেকে বু’ক করে ফেলেছিল। বিশ্বকাপ দেখার জন্য কাতারে প্রচুর সংখ্যক দর্শক উপ’স্থিত হচ্ছে। তদের জন্য তৈরি করতে হয়েছে হোটেলও। এছাড়া দর্শকদের স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য পরিবহনেও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। নামানো হয়েছে চার হাজার বাস। এছাড়াও বিশ্বকা’প সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়কে আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তুলার জন্যও প্রচুর পরিমাণ অর্থ ব্য’য় করেছে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজকরা।

 

এবারের বিশ্বকাপ নিয়ে উ’ন্মাদনা যেমন আছে, তেমনি রয়েছে বিত’র্কও। যার শুরু হয়েছিল সেই কাতার বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পর থেকেই। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ হওয়ার কারণে কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনটা যেন পশ্চিমা বিশ্ব কোনোভাবে মে’নেই নিতে পারছিল না। এমনকি যারা বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছে তারাও নাক সি’টকা’চ্ছে কাতার বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে।

 

ঠিক এমন পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারী ৩২ দেশকে সত’র্ক করে দিয়েছেন খোদ ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তার মতে বিশ্বকাপে এসে রাজনীতি নয়, বরং খেলার দিকেই বেশি মনোযো’গ দেওয়ার আহব্বান জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ফিফা সভাপতি।

 

যেখানে তিনি ফুটব’লকেই সব কিছুর ঊর্ধ্বে তুলে ধরার কথা সুস্প’ষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই চিঠিতে ফিফা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক লিখেন, ‘দয়া করে ফুটবলেই আপানারা সব মনোযো’গ নিব’দ্ধ করুন। পৃথিবীতে যত আদর্শিক এবং রাজনৈ’তিক মত-পথ আছে, এসবের সঙ্গে ফুটবলকে কোনোভাবেই গু’লিয়ে ফেলবেন না।’

 

২০১০ সালে কাতার বিশ্বকাপ আয়োজকের মর্যা’দা লাভ করে। এরপর যত বিত’র্ক তৈরি হয়েছে দেশটিকে কেন্দ্র করে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে; স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য শ্রমিকদের ম’জুরি দেয়া, অমানবিক আচরণ করা এবং ন্যায্য পাওনা বুঝিয়ে না দেয়ার অভিযো’গ। তবে সেইসব চ্যা’লেঞ্জ মোকাবিলা করেই স্বপ্নের এই আয়োজনকে ঘিরে এখন পুরোদু’স্তর ব্য’স্ত সময় পার করছে কাতার। এর মধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের এক খু’শির সংবাদ দিল আয়োজকরা। খেলা দেখা যাবে টি’কিট ছাড়াই।

 

যদিও বা এই সুযোগ সবার জন্য নয়। যারা বাইরের দেশ থেকে কাতারে খেলা দেখতে যাবেন কেবলমাত্র তাদের ক্ষে’ত্রেই এটা প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে একটি শ’র্তও ছুড়ে দিয়েছে আয়োজক কর্তৃ’পক্ষ। অবশ্যই একটি হায়া কার্ড বানাতে হবে। এটি টুর্নামেন্ট আইডেন্টিফিকেশন ডকু’মেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এই কার্ডটি থাকলে টিকিটের প্রয়োজন হবে না সমর্থ’কদের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জাবর হামুদ জাবর আল নুয়াইমি বিষয়টি নি’শ্চিত করেন।

 

২০ নভে’ম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক কাতার। তার পরেরদিন হল্যান্ডের মোকাবি’লা করবে সাদিও মানের সেনেগাল। বিশ্বকাপ ঘিরে এখন উৎসবের নগরী কাতারের রাজধানী দোহা। কাতারের সুউ’চ্চ বড় বড় ইমারত ও দালানকোঠা, রাস্তাঘাট সেজেছে নতুন সাজে। দোহা শহ’রের সৌন্দর্য উপভোগ ও প্রিয় দলের সমর্থন নিয়ে ব্য’স্ত প্রবাসী বাংলাদেশীরাও। প্রবাসীরা বলছেন, কাতারে এখন সাজ সাজ রব। কিভাবে সাজানো হয়েছে, সেই দৃশ্যই দেখতে এসেছেন তারা। তারা খুবই আনন্দিত যে এখানে বিশ্বকাপ আয়োজন হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *