প্রতি চার বছর পর পর অনু’ষ্ঠিত হয় ফুটবল বিশ্বকাপ। অন্যান্য যেকোনো সময়ের থেকে ফুটবলপ্রে’মীরা আরও বুঁ’দ হয়ে থাকেন সেই সময়ে। ক’দিন বাদেই কাতারে বসতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২২তম আসর। পৃথিবীজুড়ে ৫০০ কোটিরও বেশি মানুষ চোখ রাখবেন তাতে।

 

টিকিট ও পণ্য বি’ক্রি থেকে শুরু করে কর্পোরেট স্প’ন্সরশিপ, প্রাইজমানি ও প্রচুর পরিমাণের অর্থ ব্যয় হবে টুর্নামেন্টকে ঘিরে। কিন্তু এর বিপরীতে আর্থিকভাবে লা’ভবান হতে পারবে তো আয়োজক কাতার? সরাসরি বললে, এর উত্তর ‘না’-ই আসবে। অতীত ইতিহা’স বলছে বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রস্তু’তি, হোটেল নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদির পেছনে বিলিয়ন বি’লিয়ন ড’লার খরচ করে আয়োজক দেশ। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষে’ত্রে খরচ করা সেই অর্থ আর ফিরে আসে না।

 

বিশ্বকাপ নি’শ্চিতভাবেই টাকার খ’নি। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে টিভি স্ব’ত্ব বিক্রি হয়েছিল ৪.৬ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু এর পুরোটাই যায় ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার পকে’টে। টিকিট বিক্রির যে কোম্পানি তা শতভা’গ ফিফার মালিকানাধীন থাকে। ২০১৮ চ’ক্রে বি’পণন খাত ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যে বিক্রি হয়।

 

সেটাও নিজেদের কাছে রেখে দেয় ফিফা। যদিও টুর্নামেন্টের মূল খরচ তা’রাই বহন করে। এবার কাতারকে সেজন্য ১.৭ বিলিয়ন ডলার দেবে তারা। সেখানে ৪৪০ মিলিয়ন ডলার প্রাইজমানিও অ’ন্তর্ভু’ক্ত থাকবে। তবে বিশ্বকাপের জন্য অবকাঠামো, হোটেল ও অবকাশ যাপ’নের সুবিধা, সড়ক ও রেল ব্যবস্থাকে ঢে’লে সা’জাতে আলাদাভাবে ২০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে কাতার।

 

প্রায় মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হবে কাতারে। তাই পর্যটন ব্যবসা, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের আয় বৃ’দ্ধি পাবে। কিন্তু সেই খরচ তুলতে অতিরিক্ত সক্ষ’মতার প্রয়োজন। কেননা বিশ্বকাপ আয়োজনের পেছনে ব্যয় সাধারণত স্বল্প মেয়াদে উৎপন্ন রাজ’স্বের চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। তাই এই সংক্ষি’প্ত সময়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

 

দ্য ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফো’রামের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সময় হোটেলে রুম ভাড়ার মূল্য বৃ’দ্ধি পেলেও কর্মীদের বেতন সেই পরিমাণে বাড়ে না। তাই যাদের টাকা আছে তারাই কে’বল টাকা কামাতে পারবেন। বিশ্বকাপ থেকে আসা পর্যটকরা পণ্য, পানীয় বা যা কিছু ক্র’য় করে থাকেন; তার একটিও আয়োজক দেশের রাজস্বে যাচ্ছে না।

 

কারণ বিশ্বকাপ বি’ডিং প্রক্রিয়ায় ফিফা ও তাদের স্প’ন্সর ব্র্যান্ডগুলোর জন্য প্রচুর ট্যা’ক্স বিরতির প্রয়োজন। ২০০৬ বিশ্বকাপের বিডের জন্য ২৭২ মিলিয়ন ডলার ট্যা’ক্স বিরতির দা’বি করেছিল জার্মানি। সাধারণ পর্যটকেরা মূলত আয়োজক দেশে ভিড়, ট্রাফিক ও মূল্যবৃ’দ্ধির মতো বিষয়গুলো এ’ড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

 

কিন্তু গত ১ নভেম্বর থেকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত টি’কিট না থাকলে কোনো ব্য’ক্তি কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাই স্বল্প মেয়াদে চিন্তা করলে আর্থি’কভাবে ক্ষ’তির মুখেই পড়বে আয়োজক দেশ। কিন্তু কিছু জিনিস আছে যা টাকার চেয়েও বড়। বিশ্বকাপ আয়োজন করলে পুরো বিশ্বকে নিজের স’ক্ষমতা দেখানোর সুযোগ থাকে।

 

যাতে করে বড় বড় ব্যবসায়ী এখানে বিনিয়ো’গ করতে আগ্রহী হন। দীর্ঘ মে’য়াদের কথা ভাবলে, কাতার যদি সঠিকভাবে টুর্নামেন্টটি পরিচালনা করতে পারে, তাহলে দেশটির অর্থনী’তি আরও ব্যাপকভাবে প্র’সারিত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নতুন সড়ক ও যোগাযোগ প্রকল্পগুলো দেশকে অর্থনৈ’তিক সুবিধা এনে দেবে।

 

বড় আন্তর্জাতিক স্পো’র্টিং ইভেন্টগুলো সামাজিক ভে’দাভে’দ দূর করে এক সেতুব’ন্ধন হিসেবে কাজ করে। সীমান্তের কাঁ’টাতার পেরিয়ে লোকগুলোকে এক’ত্রিত করে তোলে। ঠিক যেমনটা দেখা গিয়েছিল ২০১৮ শীতকালীন অলি’ম্পিকের বেলায়। বৈরী সম্প’র্ক থাকার পরও সেবার এক ছাতার নিচে ছিল দুই প্রতিবেশি দেশ দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া।

 

এই ইভেন্টগুলো শিশুদের খেলাধুলায় আরও আগ্র’হী করে তোলে। যা একটি দেশকে অর্থনৈ’তিক সুবিধা দেয়। তাই বিশ্বকাপ আয়োজন করা একটি দেশের জন্য টাকার চেয়েও বেশি গর্বের এবং স’ম্মানের। একইসঙ্গে প্রচারের উপযু’ক্ত মাধ্যমও। কাতারের কাছে নিশ্চয়ই ব্য’তিক্রম নয়। সেজন্য দুই হাত খুলে বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *