নৌকায় ভোট না দিলে দেশ ছাড়া করার হুমকি দিলেন চেয়ারম্যান আবু বক্কর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) উপনির্বাচনে নৌকায় ভোট না দিলে দেশ ছাড়া করার হু’মকি দিয়েছেন এক চেয়ারম্যান। গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামলের বি’রু’দ্ধে এই অভি’যোগ করেছেন সং’খ্যালঘুরা।

 

গতকাল রোববার দুপুরে গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামলকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের নামে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভু’ক্তভো’গী ব্রজেন্দ্রনাথ (৪৩)। ব্রজেন্দ্রনাথ উপজেলার পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের দেবেশ্বর বর্মণের ছেলে।

 

উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে উপ–নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৯ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্ব’ন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন নুরল আমীন। প্রচারণায় বা’ধা ও হা’মলা ভা’ঙচু’রের অভি’যোগ করে আসছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আরিফ।

 

গত শনিবার সন্ধ্যায় ৮ /৯টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নৌকা প্রতীকের স’মর্থনে প্রচারণায় পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামে যান পার্শ্ববর্তী গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল। এ সময় গ্রামের লোকজনকে ২৯ ডিসেম্বর নৌকায় ভোট দিতে বলেন তিনি। ভোট দিতে রাজি না হওয়ায় ওই গ্রামের ব্রজেন্দ্রনাথ ও তাঁর স্ত্রী’র ওপর ক্ষি’প্ত হন তাঁরা।

 

এ সময় শ্যামলের লোকজন তাঁদের ওপর চড়াও হয়ে লোহার রড’ আর ডেগার (বড় ছু’রি) উঁচিয়ে হু’মকি দেন। তাঁরা বলেন, ‘ভোট না দিলে পিটায়ে হাত পা ভে’ঙে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। এখানে থাকলে নৌকায় ভোট দিতে হবে।’ ভু’ক্তভো’গী পরিবার নিরাপ’ত্তা ও ন্যায়বিচার চেয়ে গতকাল হাতীবান্ধা থানায় অভি’যোগ দিয়েছে।

 

এর আগেও এই গ্রামে একাধিকবার হা’মলা ও ভা’ঙচু’রের ঘটনা ঘটেছে। আহ’ত হয়েছেন অনেকেই। দুই দিনের হাম’লায় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২২ জন আহ’ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযো’গকারী ব্রজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল আমাদের হি’ন্দু সম্প্র’দায়ের লোকজনকে ভ’য়ভী’তি দেখান।

 

আমরা নাকি গরু খাওয়া হি’ন্দু। আমরা নাকি নৌকায় ভোট দিব। ভোট না দিলে হাত পা ভে’ঙে দেশ ছাড়া করা হবে। আমরা নিরাপ’ত্তাহী’নতায় ভুগছি। আমরা থানায় অভি’যোগ করেছি। এর সঠিক বিচা’র চাই।’ অভিযো’গের বিষয়ে জানতে চাইলে গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সংখ্যালঘুরা আওয়ামী লীগের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আছেন। আনারাস প্রার্থীর (স্বতন্ত্র) লোকজন ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁ’সাতে মি’থ্যা মাম’লা করেছে।’

 

সংখ্যালঘুদের সঙ্গে এমন আচ’রণের বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হয় হাতীবান্ধা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্রনাথ রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঘটনা সত্য হলে দুঃ’খজনক। আমি অসু’স্থ, আপনারা সভাপতির সঙ্গে কথা বলেন।’

 

হাতীবান্ধা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার সিংহের দৃ’ষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘মা’মলা হইতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো অভি’যোগ নেই। দশ-বারো দিন আগের কথা।’ এই বলেই সংযোগটি বিচ্ছি’ন্ন করে দেন তিনি। অভিযো’গের বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *