প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লি বিমানবন্দরে কেন ভারতের একজন প্রতিমন্ত্রী স্বাগত জানালেন, তা নিয়ে সোশ্যাল মি’ডিয়াতে হইচই শুরু হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রো’টোকল অনুযায়ী একজন সফররত সরকার প্রধানকে যে সর্বো’চ্চ সম্মান দেওয়ার কথা, সেটাই কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে শেখ হাসিনার আগেরবারের দিল্লি সফরেও (অক্টোবর ২০১৯) বিমানবন্দরে যাননি, সেটাও তারা মনে ক’রিয়ে দিচ্ছেন। ‘ফলে এমন নয় যে এবারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনায় কোনও ত্রু’টি হয়েছে বা প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে না গিয়ে অতিথিকে কোনও অ’মর্যাদা করেছেন।’ বলছেন সাউথ ব্ল’কে প্রো’টোকল বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা।

 

নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রিত্বের পর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবার দিল্লি এসেছিলেন ২০১৭ সালের এপ্রিলে। সেই রাষ্ট্রীয় সফরেও বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থ’নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীকে – আর তিনি ছিলেন তৎ’কালীন কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী বাবুল সুপ্রিয়। আসানসোল আসন থেকে জিতে তখন বিজেপির এমপি ছিলেন তিনি।

 

কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও বিমানবন্দরে উপ’স্থিত হয়ে যান শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে। সেটা অনেকটাই ব্য’ক্তিগত হৃ’দ্যতার খাতিরে, তবে রুটিন অনুযায়ী অভ্যর্থনার দায়িত্ব পালন করেন বাবুল সুপ্রিয়ই। ‘দুই প্রধানমন্ত্রীর আমলে সেটা ছিল দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রথম সফর, তার একটা অন্যরকম ব্য’ঞ্জনা ছিল বলেই প্রো’টোকল ভে’ঙে একটা ব্য’তিক্রম স্থাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।’ বলছিলেন ওই কর্মকর্তা।

 

তার আড়াই বছর পর শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের অক্টোবরে যখন আবার দিল্লিতে আসেন, তখন বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানানোর দায়িত্ব পান আর একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত বিজেপি এমপি দেবশ্রী চৌধুরী। সেবার কিন্তু ন’রেন্দ্র মোদি নিজে আর বিমানবন্দরে আসেননি।

 

প্রো’টোকলে’র রীতি অনুযায়ী এবারেও আর একজন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে স্বাগত জানানোর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় রেল ও ব’স্ত্র প্রতিমন্ত্রী দর্শনা বিক্রম জারদোশ। তিনি সুরাট থেকে নির্বাচিত বিজেপির এমপি। গত দুবার যে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন তারা দুজনেই ছিলেন বাঙালি। আর এবারে একজন গুজরাটি মন্ত্রী তাকে অভ্যর্থনা জানালেন। পার্থক্য যদি বলেন – তা শুধু এটুকুই।’ হাসতে হাসতে যো’গ করছেন ভারতীয় ওই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.