পাকিস্তানের জয় দিয়ে দুইটা প্র’শ্নের উত্তর পেল এশিয়া কাপ। প্রশ্ন ‍দুটি ছিল- ফাইনা’লে খেলবে কারা, বিদায়ই বা নেবে কোন দুটি দল। আফগানদের বিপক্ষে ১ উইকেটে জয় পাওয়ায় ফাইনা’লে উঠেছে পাকিস্তান, শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। এক ম্যাচ বা’কি থাকা সত্ত্বেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নি’শ্চিত হয়েছে ভারত ও আফগানিস্তানের।

 

রাজকীয়ভাবে এশিয়া কাপ শুরু করা নবি বাহিনীর ব্যা’টিং লাইনআপ শারজাহর স্পিনিং উইকেটে ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। পরে আফগানি’স্তানের বোলাররাও জয়ের জন্য সবটুকুই দিয়েছিলেন। তাদের হার মানতে হয় পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের কাছে। মিডল অর্ডারে শাদাব খান ৩৬ ও ইফতিখার আহমেদ ৩০ রান করেন।

 

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) ১৩০ রান ডিফেন্ড করতে নেমে আফগানিস্তানকে দারুণ শুরু এনে দেন ফজলহক ফারুকী। প্রথম ওভারে’ই শূন্য রানে তিনি ফেরান বাবর আজমকে। সবশেষ চার ম্যাচে বাবরের সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি ১৪। ফজলহক ওই ওভারে দেন ৬ রান। টাইট বোলিং করেন মুজিব উর রহমানও।

 

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে তিনি খরচ করেন মাত্র ২ রান। ফখর জামান বিদায় নেন নাজিবউল্লাহর ‍অসাধারণ এক থ্রোয়ে। ৯ বলে মাত্র ৫ রান করেন তিনি। পাকিস্তা’নের যে ম’নোভাব, তাতে মনে হচ্ছিল স্পিনারদের রয়ে-সয়ে সামলে পেসারদের পেটাবে। ইনিংসের ৯ ওভার শেষে আফগান স্পিনার ও পেসারদের ইকোনমি যে ছিল সে রকমই।

 

পেসারদের ৮ বা তার বেশি ই’কোনমি থাকলেও স্পিনারদের মধ্যে কেউই ৪-এর বেশি রেটে রান দেননি। এরইমাঝে মোহাম্মদ রিজওয়ানের উইকেট তু’লে নেন রশিদ খান। রশিদের বলে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি পাকিস্তানি কিপার, প্যাভিলিয়নে ফেরেন ২৬ বলে ২০ রান করে।

 

জয়ের জন্য যা দরকার ছিল, শাদাব খান আর ইফতিখার আহমেদ মিলে সেটাই করে দিয়ে যান। ইফতিখার ১০০-এর নিচে স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করলেও শা’দাব খেলেন প্রায় ১৪০- স্ট্রাইক রেটে। দুজনের মধ্যে ইফতিখারকে ফরিদ আহমেদ ও শাদাবকে রশিদ খান আউট করেন। খেলা জমে উঠে খুশদিল শাহ আউট হয়ে গেলে।

 

ফজলহক ফারুকীর বলে আউট হন খুশদিল। হারিসকে ফেরান ফরিদ। আসিফ আলি শর্ট বল পেটাতে গিয়ে দলকে বিপদের মধ্যে ফেলে মাঠ ছাড়েন। ৮ বলে তিনি করেন ১৬ রান। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান তুললেও পরের ওভারে তা পুষিয়ে নেয় আফগা’নিস্তান। মোহাম্মদ হাসনাইনের করা ওভারে ১৬ রান তোলে রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও হযরতউল্লাহ জাজাঈ জুটি।

 

নাসিম শাহর পরের ওভা’রে আসে ৭ রান। চতুর্থ ওভার করতে এসে প্রথম দুই বলে মাত্র ২টি চার হজম করেন হারিস রউফ। পরের বলে তিনি জাজাঈয়ের উইকেট নিয়ে নিতে পারতেন, যদি-না নাসিম শাহ থা’র্ডম্যান অঞ্চলে ক্যাচটি মিস করতেন। তবুও উইকেটের জন্য ১ বলের বেশি অপে’ক্ষা করতে হয়নি পাকিস্তা’নি ফাস্ট বোলারকে। এক বল বিরতিতে তিনি তুলে নেন গুরবাজের উইকেট। ১১ বলে ১৭ রান করে আউট হন আফগান ওপেনার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.