আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৮ বছর ধরে ট্যাক্সি চালায় বাংলাদেশি নারী শিউলি

আরব আমিরাতের ব্য’স্ততম বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ে বাংলাদেশি প্রথম নারী ট্যাক্সিচালক হিসেবে সা’ফল্য পেয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শিউলি আক্তার। প্রায় ৮ বছর ধরে দুবাইয়ের রা’ষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থার (আরটিএ) একজন স্থায়ী ট্যাক্সিচালক হিসেবে সাফল্যের স’ঙ্গে কাজ করছেন তিনি।

 

কঠোর পরি’শ্রম আর সংস্থার আয় বৃ’দ্ধিতে ভূমিকা রাখায় পরপর ৪ বার আরটিএ’র সফল কর্মী হিসেবে স’ম্মাননাও পেয়েছেন শিউলি আক্তার। তবে এত অ’র্জন ও সাফল্যের মধ্যেও নিজের সন্তান, স্বজন, পরিবার এবং দেশের মা’য়ায় ফিরতে চান বাংলাদেশে। দুবাইয়ের মতো বাংলাদেশেও যদি নারী গাড়ি চালকদের জন্য কোনো ভালো চাকরির সুযো’গ থাকলে শিউলি আক্তার দেশে ফিরতে চান।

 

বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২২) বিকেলে দুবাইয়ে নিজের ট্যা’ক্সিতে বসে শিউলি আক্তার রাই’জিংবি’ডিকে শুনিয়েছেন তার জীবনের গল্প। শিউলি আক্তার জানান, ২০১৪ সালের আগে তিনি দেশে পোলট্রি ব্যবসার স’ঙ্গে সম্পৃ’ক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালের প্রথমদিকে এই ব্যবসায় বড় ধরনের লো’কসা’নের মুখে পড়ে অনেকটা নিঃ’স্ব হয়ে যান। অর্থ, বিনিয়োগ সব হা’রিয়ে কি করবেন, কোথায় যাবেন কিছুই যখন বুঝে উঠতে পারছিলেন না, তখন দুবাইয়ে অবস্থানরত তার ভাই দুবাইয়ে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা আরটিএ-তে নারী ড্রাইভার নিয়োগের বিষয়টি জানান।

 

এরপরই পাল্টে যায় তার জীবন। শিউলি বলেন, ‘তখন পর্যন্ত আমার ড্রাই’ভিংয়ের কোনো অভি’জ্ঞতা ছিলো না। ট্যাক্সি ড্রাইভার হবো কখনো কল্পনাও করিনি। পরি’স্থিতির কারণে ভাইয়ের পরামর্শে দেশ থেকে ড্রাইভিংয়ের বেসিক নলেজ নিয়ে দুবাই চলে আসি। দুবাই এসে আরটিএ’র প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হই। এখানে নিজ খরচে প্রায় ৬ মাস ড্রাইভিংয়ের নিয়ম-কানুন এবং গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ শেষ করি।

 

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৫ সালের প্রথমদিকে ড্রা’ইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রথমবারেই স’ফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন শিউলি। তিনি বলেন, এখানে প্রশিক্ষ’ণ গ্রহণের পরও প্রথমবারে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় উ’ত্তী’র্ণ হওয়া অনেক কঠিন। তবে আমি প্রথমবারেই এই পরীক্ষায় উত্তী’র্ণ হয়েছি। ২০১৫ সালের মার্চে ড্রাইভিং লা’ইসেন্স পাওয়ার পর এপ্রিল মাসেই আরটিএ’র ট্যা’ক্সিচালক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি।

 

রাই’জিংবি’ডিকে শিউলি আক্তার বলেন, এখানে নারী ট্যা’ক্সিচালক হিসেবে ভালো সুযোগ সুবিধা পাই। প্রতিদিন আমাদের ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে সা’র্ভিস দিতে হয়। দুবাই থেকে ওমান বর্ডার, সৌদি আরবের সীমা’ন্ত পর্যন্ত মাঝে মাঝে ১০/১২ ঘণ্টাও টানা ড্রাইভ করতে হয়। তিনি জানান, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৮ বছর দুবাই শহরে ট্যাক্সি চালালেও কখনো কোনো ধরনের সমস্যা বা বিপ’দের মু’খোমুখি হতে হয়নি তাকে।

 

সফল গাড়ি চালনা, নি’র্ভুল ড্রাইভিং, কাস্টমার সার্ভিস, কোম্পানির আয় বৃ’দ্ধিতে অবদান রাখায় পরপর ৪ বার শ্রেষ্ঠ কর্মীর পুরস্কার অর্জন করেন শিউলি আক্তার। শিউলি বলেন, এখানে রাষ্ট্রীয় সংস্থার ট্যাক্সিচালক হিসেবে ভালো আয় থাকলেও দুবাই অনেক এক্সপে’ন্সিভ শহর। এখানে জীবন যাত্রার ব্যয় অনেক বেশি। বিশেষ করে আবাসন এবং অন্যান্য খাতে প্র’তি মাসে আয়ের বড় অংশই খরচ হয়ে যায়। ফলে পরিবার ছেড়ে একা থাকতে হ’চ্ছে দুবাইয়ে।

 

শিউলি আক্তার জানান, দেশে তার স্বামী ও ১১ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে। আছেন মা বাবা। তাদের ছেড়ে সুদুর মরুর দেশে একা বসবাস করা অনেক ক’ষ্টের। তিনি জানান, দুবাইয়ে ট্যা’ক্সিচালক হিসেবে পেশা পরিবারের সবাই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও দেশে ফিরতে চান তিনি। শিউলি আক্তার বলেন, এখানে যত বেশি টাকা আয় করি না কেনো দেশের প্রতি মা’য়া, পরিবার স্বজনদের যে ভালোবাসা সে ভালোবাসা থেকে ব’ঞ্চিত হচ্ছি।

 

তাই দেশে যদি আমাদের মতো নারী ড্রাইভা’রদের জন্য কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকতো তাহলে আমি দেশে ফিরে যেতাম। শিউলি বলেন, আমি শু’নতে পেরেছি, দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করবে যেগুলোতে চাল’কও থাকবে নারী। এছাড়া সরকারি কোনো সংস্থা বা বিদেশি এনজিওসমূহে যদি নারী ড্রাইভারদের সুযোগ দেয় তাহলে আমি দেশে ফিরে কাজ করতে চাই।

 

শিউলি বলেন, আমি আগামীতে ভা’রী ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেতে যাচ্ছি। দুবাইয়ে প্রায় ৮ বছরের ড্রাইভিং অভি’জ্ঞতায় আমার কোনো এ’ক্সিডে’ন্ট রেকর্ড নাই। ট্রাফিক আইন ভ’ঙ্গের কোনো রেক’র্ড নাই। আমি আমার কাজের প্রতি সব সময়ই সচে’তন। আমার দক্ষতা, অভি’জ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি আমার দেশে কাজ করতে চাই।

এই ক্যাটাগরির আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *