কাতারে চার বছর বয়সী ভারতীয় স্কুলছাত্রী মৃ’ত্যুর ঘটনায় সেই স্প্রিংফিল্ড কিন্ডারগার্টেন বন্ধ করে দিয়েছে কাতারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দ্রুত তদন্তে স্কুল কর্মীদের অবহেলা প্রমাণিত হওয়ার পরে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

প্রথম শ্রেনির ছাত্রী মিনসা মরিয়ম জ্যাকবের মৃ’ত্যুতে কাতারে সব সম্প্রদায়ের মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। কাতারের নাগরিক এবং বাসিন্দাদের মধ্যে একইভাবে ক্ষো’ভের জন্ম দিয়েছে।

 

টুইটারে একটি বিবৃতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, স্প্রিংফিল্ড কিন্ডারগার্টেন বন্ধ করে দেওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্নবীকরণ করছে। কাতারের আল ওকরা শহরে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্কুলবাসে বন্ধ থাকার পর, শ্বা’সরু’দ্ধ হয়ে মৃ’ত্যু হয় মিনসা মারিয়াম জ্যাকব নামে ৪ বছরের ভারতীয় বংশদ্ভুত শিশুর।

 

দুঃখের বিষয় ওই দিনই শিশুটির জন্মদিন ছিলো। জন্মদিনে অনেক আনন্দ করার কথা ছিল মিনসা মারিয়াম জ্যাকবের কিন্তু, ওইদিনই বিদেশের মাটিতে মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটল তার। এই ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যুর জন্য যারা দা’য়ী, তাদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে জানায় কাতারের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

 

মিনসার বাবা অভিলাশ চকো এবং মা সৌম্যা, দুজনেই ভারতের কেরালার কোট্টায়াম জেলার চাঙ্গানাসেরির বাসিন্দা। তবে, কর্মসূত্রের কাতারের দোহায় থাকেন। আল ওকরার স্প্রিংফিল্ড কিন্ডারগার্টেনে পড়ত ছোট্ট মিনসা। গত রোববার (১১ সেপ্টেম্বর), ছিল তার জন্মদিন। ওইদিন সকালে তিনি স্কুলে যাওয়ার জন্য স্কুল বাসে উঠেছিল।

 

কিন্তু কিন্ডারগার্টেনে যাওয়ার পথে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। মিনসা যে বাসের মধ্যেই ঘুমিয়ে আছে, তা লক্ষ্যই করেনি বাসচালক ও তার সহকারী। মিনসাকে বাসের মধ্যে রেখেই তারা বাসটিকে ল’ক করে পার্কিং লটে রেখে চলে গিয়েছিল। দুপুরে শিশুদের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা ফিরে এসেছিল।

 

সেই সময়ই বাসের মধ্যে মিনসাকে অচে’তন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাঁ’চানো যায়নি। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন, বন্ধ বাসে অতিরিক্ত গরমে শ্বা’সরু’দ্ধ হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে ৪ বছরের মেয়েটির।

Leave a Reply

Your email address will not be published.