বাইরের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থান বাড়তে থাকায় দেশ থেকে শ্রমিক যাওয়ার হা’রও বাড়ছে। চলতি বছরে বৈধ ভাবে কাতার গেছে ১৫ হাজার শ্রমিক। এবছরের প্রথম ৮ মাসে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৮ লাখ শ্রমিক বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তবে তাদের অনেকেই রয়েছেন নানা সম’স্যায়। এর মধ্যে সৌদি আরব, দুবাই ও একক ভিসায় ইউরোপে পাড়ি জমানো কর্মীরা বেশি সম’স্যায় আছেন বলে অভি’যোগ রয়েছে।

 

এ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে শ্রমিক যাওয়া এখনো ব’ন্ধ রয়েছে। এরপরও সম্প্রতি নানা না’টক শেষে বাংলাদেশের দ্বিতিয় বৃহত্তম শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাওয়া শুরু হলেও গমনের হার একেবারে নিম্নমুখী। রি’ক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের অভিযোগ, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক কম যাওয়ার অন্যতম কারণ হাইকমিশনের অ’সহযোগিতা।

 

জনশক্তি প্রেরণের সাথে সম্পৃ’ক্ত একজন ব্যবসায়ী গতকাল শনিবার নয়া দিগ’ন্তকে বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে যে ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সি দায়িত্ব পেয়েছে তারা ঠিকমতো কর্মী পাঠানোর প্রসেসিং করতে পারছেন না। তা ছাড়া তাদের অফিস রেইটও অনেক। একজন কর্মীর বিপ’রীতে কোনো কোনো এজেন্সি তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা ডি’মান্ড করছে।

 

তিনি বলেন, এর মধ্যে আবার শুনছি মালয়েশিয়া সরকার নতুন করে আরো ২৫ রিক্রুটিং এজেন্সিকে অন্তর্ভু’ক্ত করেছে। নতুন এজেন্সির কাজকাম শুরু হলে শ্রমিক যাওয়ার খরচ কমবে। এখন আমরা অনেকেই সেই এজেন্সিগুলো আশার অপেক্ষায় আছি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাসে প্রায় ৮ লাখ কর্মী বিদেশে গেছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, তাদের মধ্যে খারা’প কতজন আছেন সেটার খবর নেন? তার মতে, আট লাখের মধ্যে ৫০-৬০ হাজার থেকে লাখো শ্রমিক আকামাসহ নানাবিধ সম’স্যার মধ্যে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম’স্যায় আছে সৌদি আরব ও দুবাইতে।

 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে ছাড়পত্র নিয়ে যাওয়ার পরও শ্রমিকরা কেন বে’কার থাকাসহ নানা সমস্যায় রয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ব্যবসায়ীর উত্তর, নন-অ্যাটাস্টেড ভিসায় বহির্গমন ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশ যাওয়া কর্মীরাই বেশি সমস্যায় আছে। তবে এসব সমস্যায় থাকা লোকদের জন্য সেখানে একটি গ্রুপ কাজ করে। তারা টাকা দিলে কাজের ব্যবস্থা করে দেয়।

 

তিনি ক্ষো’ভ প্রকাশ করে বলেন, একক ভিসায় বহির্গমন ছাড়পত্র দিতে বিএমইটির বহির্গমন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তারা আন্ডারহ্যান্ডিলিংয়ের মাধ্যমে এসব অ’নিয়ম করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে তদ’ন্ত করলেই এটি বের হয়ে আসবে কাদের মাধ্যমে শ্রমিকরা এই প্র’ক্রিয়ায় বিদেশে গেছেন।

 

সমস্যা জ’র্জরিত শ্রমিক শুধু সৌদি, আর দুবাইতে নয়, বিএমইটিতে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইউরোপের কয়েকটি দেশেও একক ভিসায় শ্রমিকরা গিয়ে এখন বিপ’দে আছে। পারলে তাদের খবর নেন। শুনেছি, চিলিসহ কয়েকটি দেশে তারা গেলেও চাকরি পায়নি। তাদের টা’র্গেট হচ্ছে ওই সব দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালিসহ অন্য দেশে প্রবেশ করা, যা খুবই ঝুঁ’কিপূর্ণ।

 

বিদেশে পাড়ি জমানো শ্রমিকদের ভিসাসহ অন্যান্য সমস্যা ও বহির্গমণ ছাড়পত্র দিতে অনি’য়মের বিষয়ে বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলমকে গতকাল সন্ধ্যার আগে একাধিকবার টেলিফোন করার পরও তিনি ধরেননি। প্র’সঙ্গত, এ বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সাত লাখ ৮৩ হাজার ৯২৫ জন শ্রমিক বৈধভাবে বিদেশে, গেছেন।

 

এর মধ্যে সৌদি আরবে চার লাখ ৯২ হাজার ৫৯৬ জন, দুবাই ৭৬ হাজার, কুয়েতে ১১ হাজার, ওমানে এক লাখ ১৭ হাজার, কাতার ১৫ হাজার। তবে বাহরাইন, লেবানন, লিবিয়া ও মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়ার পরিসংখ্যান খারা’প। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকে’ট করার নেপথ্যের একজন গতকাল নয়া দিগন্তকে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, শ্রমিক যাওয়ার গতি কম থাকার জন্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন দা’য়ী।

 

তাদের লেবার ডিপার্টমেন্টের অসহ’যোগিতার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তার দা’বি, ৯০ হাজার অ্যাপ্রুভাল সিস্টেমে ঢুকে গেছে। কিন্তু হাইকমিশন থেকে স’ত্যায়িত করা হচ্ছে খুবই স্লোভাবে, যার কারণে মালয়েশিয়াতে শ্রমিক গেছে ৭০০-৮০০। সত্যায়িত না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওই মালিক বলেন, এটা হাইকমিশন ভালো বলতে পারবে। আমার কাছে মনে হচ্ছে তাদের স্লো হওয়ার সুযোগে নেপালসহ অন্যান্য দেশের শ্রমিক দেশটিতে বেশি ঢুকছে। এটা আমাদের জন্য পরে বুমেরাং হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.